Muhammad Yunus নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে নেওয়া একাধিক সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’ নামের একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, চুক্তির ভাষা, শর্ত এবং দুই দেশের বাধ্যবাধকতার ভারসাম্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য রয়েছে।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, চুক্তিতে বাংলাদেশের ওপর অতিরিক্ত দায়বদ্ধতা চাপানো হয়েছে। তাদের দাবি, ৩২ পৃষ্ঠার এই চুক্তিতে ‘শ্যাল’ শব্দটি ১৭৯ বার ব্যবহার করা হলেও এর বেশির ভাগই বাংলাদেশের জন্য বাধ্যবাধকতা তৈরি করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক শর্ত তুলনামূলক অনেক কম।
সমালোচকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য, গাড়ি ও ডিজিটাল কোম্পানিগুলোর জন্য বিশেষ সুবিধা দিতে হতে পারে। পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ভর্তুকি নীতি ও ভবিষ্যৎ বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে সরকারপক্ষের সমর্থকেরা বলছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কম শুল্কে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে, যা রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
একই সময়ে বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া এত বড় অঙ্কের চুক্তি স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
চুক্তি অনুযায়ী, Boeing থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে। প্রথম উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা ২০৩১ সালে।
এ ছাড়া টিকাদান কর্মসূচি নিয়েও সরকারের সমালোচনা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা কেনার পুরোনো ব্যবস্থা পরিবর্তন করে উন্মুক্ত দরপত্রে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে হাম-রুবেলা টিকার সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে।
সমালোচকদের দাবি, এর ফলে ২০২৫ সালে অনেক শিশু টিকার বাইরে থেকে যায় এবং পরে দেশে হাম সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তবে সরকারঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এসব সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদি নীতি সংস্কারের অংশ এবং অর্থনীতি ও বাণিজ্য ব্যবস্থাকে নতুন কাঠামোয় নেওয়ার জন্যই উদ্যোগগুলো নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে Muhammad Yunus সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো রাজনৈতিক বিতর্ক ও জনমত বিভক্ত অবস্থায় রয়েছে।
সুত্রঃ কালের কণ্ঠ
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।