ভ্যাটিকানে অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল নোবেল লরিয়েটস অ্যাসেম্বলি’তে অংশ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও পারমাণবিক অস্ত্রের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন ১৬ জুলাই ইতালির রোমের ক্যাপিটোলাইন হিলে ‘হিউম্যানিটি অ্যাট দ্য থ্রেশহোল্ড’ শীর্ষক ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে বিশ্বের বিভিন্ন নোবেলজয়ী ব্যক্তিত্ব অংশ নেন এবং মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ঘোষণাপত্রে বলা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পারমাণবিক অস্ত্রের সমন্বয় মানব সভ্যতার জন্য এক অভূতপূর্ব হুমকি তৈরি করছে। এআই-ভিত্তিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা চলমান পারমাণবিক প্রতিযোগিতাকে আরও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে বলে এতে সতর্ক করা হয়।
নোবেলজয়ীরা মনে করেন, পারমাণবিক কমান্ড ব্যবস্থায় এআইয়ের অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর সাইবার হামলার ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং তথ্যযুদ্ধের বিস্তার আন্তর্জাতিক আস্থা ও শান্তির জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
সম্মেলনে ড. ইউনূস ছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, ধর্মীয় নেতা, বিজ্ঞানী ও নোবেলজয়ী ব্যক্তিত্ব অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার, বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
ঘোষণাপত্রে ছয়টি মূল নীতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা রোধ, দায়িত্বশীল প্রযুক্তি উন্নয়ন, পারমাণবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এআইয়ের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ, আন্তর্জাতিক তদারকি ব্যবস্থা গঠন, তরুণ নেতৃত্বের বিকাশ এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র সম্পূর্ণ বিলুপ্তির উদ্যোগ।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।