বিশ্ববাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা এলেও আন্তর্জাতিক বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং তেলের দাম বেড়েছে এবং একই সঙ্গে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য সময় বাড়িয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে। একই সঙ্গে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে অবরোধও অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তার কয়েক ঘণ্টা আগে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে ইরানকে নতুন প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানানো হয়।
তবে বাজারে এই ঘোষণার আগেই নেতিবাচক প্রবণতা দেখা দেয়। মঙ্গলবার দিনের শুরুতে কিছুটা ইতিবাচক থাকলেও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় পতন ঘটে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে যায়। একই হারে কমেছে নাসদাক কম্পোজিট সূচক। ডো জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজও ২৯৩ পয়েন্ট কমে লেনদেন শেষ করে, যদিও দিনের এক পর্যায়ে এটি প্রায় ৪০০ পয়েন্ট পর্যন্ত বেড়েছিল।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামও দ্রুত ওঠানামা করে। দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৯৫ ডলারের নিচে থাকলেও পরে তা বেড়ে প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। শেষ পর্যন্ত প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়ায় ৯৮ দশমিক ৪৮ ডলারে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগই মূলত তেলের বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে বাজার আরও ওঠানামা করতে পারে।
সূত্র: এপি