ম্যাচের সংখ্যা বেড়েছে, দল বেড়েছে, আয়োজক দেশও এবার তিনটি। তারপরও ব্যয়ের দিক থেকে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ কাতার বিশ্বকাপের রেকর্ড স্পর্শ করতে পারছে না। বরং বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ আয়োজনের তালিকায় এখনো অনেকটা এগিয়ে রয়েছে ২০২২ সালের কাতার আসর।
প্রকাশিত বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে ২০২৬ বিশ্বকাপ পরিচালনায় মোট ব্যয় হতে পারে প্রায় ১৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। বিশাল অঙ্কের এই বাজেট বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় হলেও কাতারের ব্যয়ের তুলনায় অনেক কম।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য ২০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় করেছিল। সেই হিসাবে ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্ভাব্য খরচ কাতারের প্রায় ১৬ ভাগের এক ভাগ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বড় পার্থক্যের মূল কারণ অবকাঠামোগত প্রস্তুতি। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আগে থেকেই আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম, বিমানবন্দর, সড়ক নেটওয়ার্ক, হোটেল এবং পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে বিশ্বকাপের জন্য নতুন করে ব্যাপক নির্মাণকাজে যেতে হয়নি আয়োজকদের।
অন্যদিকে কাতারকে ২০২২ বিশ্বকাপের জন্য প্রায় নতুন করে প্রস্তুত হতে হয়েছিল। নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণ, মেট্রোরেল, সড়ক যোগাযোগ, আবাসন প্রকল্প এবং বিভিন্ন নগর উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হয়। এ কারণেই কাতার বিশ্বকাপকে এখনো ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ক্রীড়া আয়োজনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
২০২৬ বিশ্বকাপের মোট ব্যয়ের মধ্যে ফিফার নিজস্ব পরিচালন বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। বাকি অর্থ ব্যয় হবে আয়োজক দেশগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা, পরিবহন, ফ্যান জোন, সম্প্রচার ব্যবস্থা এবং টুর্নামেন্ট পরিচালনার বিভিন্ন খাতে।
এবারের বিশ্বকাপ শুধু আয়োজনে নয়, কাঠামোগত দিক থেকেও নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেবে এই আসরে। ম্যাচের সংখ্যা ৬৪ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪টিতে। ফলে ভ্রমণ, নিরাপত্তা, আবাসন ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনায় আগের যেকোনো বিশ্বকাপের তুলনায় বেশি চাপ থাকবে।
তবে বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ থাকায় ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এনএফএল স্টেডিয়াম, মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ভেন্যু এবং কানাডার আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো বিশ্বকাপ আয়োজনের বড় ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
এদিকে ২০৩০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতেও ব্যয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। শতবর্ষী সেই বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজনের পরিকল্পনায় রয়েছে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। তবে আয়োজক শহরগুলোর ব্যয়, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পরিচালন খরচ নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপের ব্যয় ব্যবস্থাপনা ভবিষ্যৎ আয়োজকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।