ভিনি জুনিয়র ভালো খেলেন এটা নতুন কোনো তথ্য নয়। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল থেকে বার্সেলোনার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, সবখানেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। কিন্তু ব্রাজিলের জার্সিতে সেই ধারাবাহিকতা ছিল না দীর্ঘদিন।
জাতীয় দলের হয়ে ৩৯ ম্যাচে ভিনির অবদান ছিল মাত্র ১১টি গোল-অ্যাসিস্ট, গড়েও যা তার ক্লাব পারফরম্যান্সের তুলনায় অনেক নিচে। ফলে সমালোচনা, চাপ আর প্রশ্ন সবকিছুর মধ্যেই ছিলেন এই তারকা।
কিন্তু দৃশ্যপট বদলেছে কার্লো আনচেলত্তির আগমনে। ক্লাবে যিনি ভিনিকে গড়ে তুলেছিলেন, সেই কোচই এখন জাতীয় দলের ডাগআউটে। আর তার হাত ধরেই বদলে গেছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পারফরম্যান্স।
আনচেলত্তির অধীনে এখন পর্যন্ত ১২ ম্যাচে ভিনি সরাসরি ৯ গোলে অবদান রেখেছেন ৫ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট। পরিসংখ্যান বলছে, আগের তুলনায় প্রায় ১৬৭ শতাংশ উন্নতি ঘটেছে তার পারফরম্যান্সে।
বিশ্বকাপেও সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছেন তিনি। হাইতির বিপক্ষে গোল ও অ্যাসিস্ট করে ব্রাজিলকে এনে দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ জয়। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে তার নামের পাশে তিন গোল ও তিন অ্যাসিস্ট, যা ব্রাজিলের কিংবদন্তিদের কাতারে তাকে নিয়ে যাচ্ছে।
ভিনির এই পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে আস্থা ও স্বাধীনতা। আনচেলত্তি তাকে চাপ নয়, বরং বিশ্বাস দিয়েছেন—যেটাই এখন রূপ নিয়েছে আত্মবিশ্বাসে।
নিজেও ম্যাচ শেষে জানিয়েছেন, তিনি জানেন দলের জন্য তার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং ভালো খেললে তিনি কতটা প্রভাব রাখতে পারেন।
২০২২ বিশ্বকাপের অনিশ্চয়তা থেকে শুরু করে ক্লাব ফুটবলের সাফল্য সব মিলিয়ে ভিনির যাত্রা এখন নতুন এক পর্যায়ে। আর এই নতুন রূপই ব্রাজিলকে দেখাচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত ‘হেক্সা’ স্বপ্নের নতুন আশা।
আগামী ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আবারও বড় পরীক্ষার সামনে নামবেন ভিনি। তবে এখন তিনি শুধু প্রতিভা নন, ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ভরসাগুলোর একটি।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।