টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি ও সরবরাহ সংকটের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর কাঁচাবাজারে। বিক্রেতারা প্রায় সব ধরনের শাক-সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। একই সঙ্গে বেড়েছে ব্রয়লার, সোনালি ও অন্যান্য ফার্মের মুরগির দামও।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর শেওড়াপাড়া ও তালতলা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সবজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।
বাজারে বর্তমানে করলা, ঢেঁড়স ও পটল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুরমুখী ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দামও প্রকারভেদে বেড়ে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় পৌঁছেছে। এছাড়া টমেটো ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, সজনা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা এবং মুলা ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির পাশাপাশি কাঁচামরিচের দামও চড়া। রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়। পেঁপে ও মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, দেশি শসা ১২০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ধনেপাতার দামও ঊর্ধ্বমুখী; দেশি ধনেপাতা ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শাকের বাজারেও দাম বেড়েছে। লাল শাকের আঁটি ২৫ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং কলমি ও ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা দাম বেড়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা, সোনালি কক ৩৪০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ৩১০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের মধ্যে আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজিতে স্থিতিশীল রয়েছে।
অন্যদিকে, মাছের বাজারেও উচ্চমূল্য বজায় রয়েছে। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির দেশি ও চাষের মাছের দামও আগের তুলনায় বেশি রয়েছে।
ডিমের বাজারে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা, হাঁসের ডিম ১৮০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৃষ্টি ও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী দিনগুলোতেও নিত্যপণ্যের দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকতে পারে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।