যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ থাকা বাংলাদেশি এক পিএইচডি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। একই ঘটনায় তার রুমমেটকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা এর শিক্ষার্থী মো. জামিল লিমনের মরদেহ হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড সেতু এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিস।
লিমন বিশ্ববিদ্যালয়টির ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিভাগে পিএইচডি করছিলেন। একই প্রতিষ্ঠানে রাসায়নিক প্রকৌশলে পিএইচডি করা আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
জানা গেছে, সর্বশেষ গত ১৬ এপ্রিল তাদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশপাশে দেখা গিয়েছিল। পরদিন এক পারিবারিক বন্ধু নিখোঁজ হিসেবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান।
ঘটনার তদন্তে শুক্রবার লিমনের রুমমেট ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মারধর, জোরপূর্বক আটকে রাখা, প্রমাণ নষ্ট করা এবং মরদেহ গোপন করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার দিন তার বাসায় পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। পরবর্তী সময়ে তদন্তকারীরা একাধিকবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তবে শেষদিকে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন, যা সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তোলে।
গ্রেফতারের সময় অভিযুক্ত নিজেকে একটি বাড়ির ভেতরে আটকে রাখেন। পরে সোয়াট টিম ও সংকট ব্যবস্থাপনা ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
লিমনের পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। তার ভাই জানিয়েছেন, হঠাৎ করে দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং তারা পুরো ঘটনার সত্য জানতে চান।
এদিকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, তারা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও তদন্ত সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। পাশাপাশি মিয়ামিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
এ ঘটনায় এখনও নিখোঁজ নাহিদা বৃষ্টিকে খুঁজে বের করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।