রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে তিনটি পৃথক স্থানে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ ঘটনায় দুই শিশু নিহত হয়েছে এবং আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শ্রিভেপোর্ট পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র জানান, ৩১ বছর বয়সী শামার এলকিন্স খুব কাছ থেকে গুলি করে শিশুদের হত্যা করেন।
ঘটনার পর এলকিন্স একটি গাড়ি ছিনতাই করে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। তবে তার মৃত্যু পুলিশের গুলিতে নাকি আত্মঘাতী, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
তদন্ত ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, শামার এলকিন্স দীর্ঘদিন ধরে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন এবং সম্প্রতি তিনি আত্মহত্যার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। তার মা মাহেলিয়া এলকিন্স এবং সৎ বাবা মার্কাস জ্যাকসন জানান, ইস্টার সানডের দিন তিনি কান্নাকাটি করে ফোন করে জানান যে তার স্ত্রী শানিকা পুঘ বিবাহবিচ্ছেদ চাইছেন।
সে সময় এলকিন্স নিজেকে ‘অন্ধকার মানসিক অবস্থায়’ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছিলেন। সাবেক সেনা সদস্য ও ইউপিএস কর্মী এলকিন্সের বিরুদ্ধে আগে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ ছিল।
এই ঘটনায় তার স্ত্রী শানিকা পুঘ মাথা ও পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, নিহত শিশুরা বয়সে ১ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে ছিল এবং তারা অত্যন্ত প্রাণবন্ত ছিল।
ঘটনার পর এলকিন্সের মা জানান, কিছুদিন আগেই তিনি নাতি-নাতনিদের খোঁজ নিয়েছিলেন এবং ছেলে তাকে সব ঠিক আছে বলে জানিয়েছিল। পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবর দেখে তিনি জানতে পারেন তার ছেলে এমন ভয়াবহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
শ্রিভেপোর্টের মেয়র টম আর্সেনো এই ঘটনাকে শহরের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পুলিশ জানায়, ২০১৯ সালেও এলকিন্স একটি স্কুলের কাছে গুলি চালানোর ঘটনায় জড়িত ছিলেন, যেখানে একটি বুলেট শিশুদের খেলার মাঠের কাছাকাছি পাওয়া যায়। স্থানীয়রা তাকে মানসিক চাপে ভোগা ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যিনি মাঝে মাঝে অতিরিক্ত উত্তেজনায় নিজের চুল টেনে ছিঁড়ে ফেলতেন।
এত ভয়াবহ ঘটনার পরও কেন তিনি নিজের সন্তানদের ওপর এমন হামলা চালালেন, তা এখনো পরিষ্কার নয়। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস