মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতি’র কথা উল্লেখ করে পাকিস্তানে সব ধরনের ভিসা সাক্ষাৎকার সাময়িকভাবে বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইসলামাবাদে অবস্থিত U.S. Embassy Islamabad এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আগামী শুক্রবার (৬ মার্চ) পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। একই নির্দেশনা লাহোর ও করাচিতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
Al Jazeera এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। করাচিতে শত শত মানুষ মার্কিন কনস্যুলেট ঘেরাও করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বার্তা সংস্থা Agence France-Presse (এএফপি) এর এক প্রতিবেদকের বরাতে জানা যায়, করাচিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে নিহত ও আহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।
রাজধানী ইসলামাবাদেও কয়েক হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। মার্কিন দূতাবাসের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। স্কারদু শহরে জাতিসংঘের একটি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। লাহোরেও বড় আকারের বিক্ষোভ সমাবেশ দেখা যায়।
পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য পাকিস্তানে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী Shehbaz Sharif সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় খামেনি হত্যাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানকে লক্ষ্যবস্তু না করা একটি দীর্ঘদিনের নীতি, এবং এ ঘটনায় পাকিস্তান ইরানের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে পাকিস্তানে কূটনৈতিক ও কনস্যুলার কার্যক্রম আরও সীমিত হতে পারে।
এখনো কোনো মতামত নেই।