চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন দাবি করেছেন ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত রাভানচি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইরান সরকারের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, তেহরানের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল বন্দর ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া। আলোচনার শুরু থেকেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হয়েছিল এবং এখন সেই প্রক্রিয়া কার্যকর হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই অবরোধ তুলে নেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা দুই দেশের চলমান সমঝোতা প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের অনুমোদন দিয়েছেন।
তবে বহুজাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার (জেএমআইসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ কার্যক্রম নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বহাল থাকার কথা ছিল।
এদিকে ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আনুষ্ঠানিকতা আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সম্পন্ন হতে পারে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। জবাবে ইরান বিভিন্ন মার্কিন ও ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। একই সময়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণাও দেয় তেহরান।
পরিস্থিতির জেরে ইরানের বন্দর ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনার ধারাবাহিকতায় সেই অবরোধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এখন নজর জেনেভার বৈঠকের দিকে। সেখানে সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষর হলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।