মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে আজ সুইজারল্যান্ডে সরাসরি আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং লেবাননের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এই বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই বৈঠকে অংশ নিতে ইতোমধ্যে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আলোচনায় যোগ দিতে রওনা হয়েছেন।
বৈঠকের আগে জেডি ভ্যান্স জানান, লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতার মাত্রা কিছুটা কমেছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের লক্ষ্য হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানো, ইসরায়েল ও লেবাননের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার ভিত্তি তৈরি করা।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, আলোচনায় তারা পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে স্পষ্ট অগ্রগতি দেখতে চায়। তেহরানের অবস্থান হলো, যেকোনো সমঝোতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিশ্রুতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আলোচনার সূচনাপর্বে উপস্থিত থাকবেন। এর আগে পাকিস্তানের উদ্যোগে দুই দেশের মধ্যে একটি প্রাথমিক সংলাপও অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন দাবি উঠলেও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক এই নৌপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
গত কয়েক দিনে লেবানন সীমান্তে সংঘর্ষ ও বিমান হামলার ঘটনা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। যদিও এর আগে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা জানানো হয়েছিল, তারপরও বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি বিস্তৃত সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েই বর্তমান আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আজকের বৈঠক সেই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।