যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি, জনসংখ্যা ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে ইরানের তুলনায় অনেক এগিয়ে থাকলেও তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে বিশ্ববাসী ও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এ পদক্ষেপ যুদ্ধের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণে তাদেরকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে।
যুদ্ধের এক মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর লড়াই এখন দর-কষাকষি ও কূটনৈতিক ক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা অত্যন্ত প্রভাবশালী, সরাসরি হুমকি দিয়ে হরমুজ প্রণালি খুলতে গেলে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির ঝুঁকি ও রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট ট্রাম্পের কূটনৈতিক সাফল্য দাবি করলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০টি ট্যাংকার চলাচলের অনুমতি বড় কোনো বিজয় নয়। এ পদক্ষেপ মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের তৈরি সংকটের ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ মেরামত করার চেষ্টা মাত্র।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খরচ বৃদ্ধি পাবে। ইরান জ্বালানি রপ্তানি ও উপসাগরীয় অঞ্চলে সামান্য পদক্ষেপেই বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে সক্ষম।
ইরানের কৌশলগত অবস্থান, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের নিয়ন্ত্রণ, এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি সবকিছুই এই সংঘাতকে একটি জটিল, দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে রূপান্তরিত করেছে। তুরপের তাস কেবল তখনই কার্যকর হবে, যখন তা কৌশলগত বিজয় নিশ্চিত করবে।
বিশ্ব বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, উভয় পক্ষের এই পদক্ষেপের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর বিপুল হতে পারে।
এখনো কোনো মতামত নেই।