মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাজ্যে ওষুধ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দেশটিতে ওষুধ সংকট তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা মুডিসের সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড উইকস ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা জটিল হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে ভারত থেকে ওষুধ আমদানিতে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিশ্বে ব্যবহৃত জেনেরিক ওষুধের প্রায় ৬০ শতাংশই ভারত উৎপাদন করে, ফলে সেখানে ব্যাঘাত বিশ্বজুড়ে প্রভাব ফেলছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দুবাই, দোহা ও আবুধাবির বিমানবন্দর আংশিক বন্ধ থাকায় আকাশপথে ওষুধ পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কোম্পানি বাধ্য হয়ে সমুদ্রপথে পণ্য পাঠাচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।
মেডিসিনস ইউকের প্রধান নির্বাহী মার্ক স্যামুয়েলস জানান, এখনো বড় সংকট তৈরি হয়নি, তবে পরিস্থিতি গুরুতর। সাধারণত ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মজুত থাকে, কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘ হলে দ্রুত ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আকাশপথে পরিবহন খরচ ইতোমধ্যে দ্বিগুণ হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে কিছু ওষুধের দাম বাড়তে পারে, বিশেষ করে ফার্মেসি ও সাধারণ চিকিৎসা সেবায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও ব্যাহত হচ্ছে। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে ওষুধের দাম বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ সংকটও দেখা দিতে পারে।
এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামাল যেমন এপিআই, সিরিঞ্জ ও ভায়াল এর খরচও বেড়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে চাপ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি ব্যয়ের প্রভাব রোগী ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরই পড়বে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
এখনো কোনো মতামত নেই।