বিশ্বকাপের এল গ্রুপের ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ইংল্যান্ড। ম্যাচের ১২তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে দলকে এগিয়ে দেন কেইন। তবে প্রথম প্রচেষ্টা সফল হয়নি। ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ শট ঠেকিয়ে দিলেও তিনি আগেভাগে গোললাইন ছেড়ে বেরিয়ে আসায় পুনরায় পেনাল্টি নেওয়ার নির্দেশ দেন রেফারি। দ্বিতীয়বার আর কোনো ভুল করেননি ইংলিশ অধিনায়ক।
এই গোলের মাধ্যমেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে টাইব্রেকার বাদে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি গোলের রেকর্ড গড়েন তিনি। বিশ্বকাপে কেইনের পেনাল্টি গোল এখন ৫টি। এর আগে ৪টি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন লিওনেল মেসি, ইউসেবিও, গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা ও রব রেনসেনব্রিঙ্ক।
শুধু এটুকুই নয়, ম্যাচে আরও একটি বড় কীর্তি গড়েন কেইন। ৪২তম মিনিটে হেড থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। বিশ্বকাপে এটি তার দশম গোল, যা ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের যৌথ রেকর্ড।
এর আগে ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার গ্যারি লিনেকারের বিশ্বকাপ গোল ছিল ১০টি। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে সেই রেকর্ডে নাম লেখালেন কেইনও।
এছাড়া ডেভিড বেকহামের পর দ্বিতীয় ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তিও গড়েছেন তিনি। ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬— টানা তিনটি বিশ্বকাপেই গোল করেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড অবশ্য আগেই নিজের করে নিয়েছেন কেইন। ইংল্যান্ডের জার্সিতে এখন পর্যন্ত তার গোলসংখ্যা ৮১। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ওয়েইন রুনির গোল ৫৩টি।
৩২ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের সামনে এখন আরও বড় লক্ষ্য। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড এককভাবে নিজের করে নেওয়ার জন্য তার প্রয়োজন আর মাত্র একটি গোল। বর্তমান ফর্ম দেখে মনে হচ্ছে সেই অপেক্ষা খুব বেশি দীর্ঘ হবে না।
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা ইংল্যান্ডের সমর্থকদের জন্য তাই সুখবর একটাই— হ্যারি কেইন এখন শুধু গোল করছেন না, ইতিহাসও লিখছেন।
বিশ্বকাপে ১০ গোল নিয়ে এখন তিনি ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা গোলদাতাদের কাতারে। আর পেনাল্টি গোলের রেকর্ডে মেসিদের ছাড়িয়ে উঠে গেছেন একক শীর্ষে।
এক কথায়, ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে রাতটি ছিল পুরোপুরি হ্যারি কেইনের।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।