ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি সীমিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মার্কিন সিনেট, যা হোয়াইট হাউসের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ৫০-৪৮ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়। এর আগে চলতি মাসেই এটি প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদন পেয়েছিল। ফলে যুদ্ধ ইস্যুতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা উঠে এসেছে।
সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও দলের কয়েকজন সদস্য বিরোধী অবস্থান নেন। চার রিপাবলিকান সিনেটর ডেমোক্র্যাট সদস্যদের সঙ্গে একযোগে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। এতে ইরান সংঘাত নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের ভেতরেও মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান পরিচালনা করা যাবে না। পাশাপাশি শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে মার্কিন বাহিনীর ভূমিকা সীমিত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার অভিযোগ করেন, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকে অপ্রয়োজনীয় সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তার দাবি, এই নীতির কারণে দেশ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে।
তবে প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছেন কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর। তাদের মতে, এমন পদক্ষেপ চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুর্বল করতে পারে এবং ইরানকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবটি প্রতীকী গুরুত্ব বহন করলেও এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। কারণ সাম্প্রতিক জরিপগুলোতেও দেখা যাচ্ছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনগণের সমর্থন সীমিত।
রয়টার্স ও ইপসোসের এক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ২৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এই সামরিক অভিযানকে সমর্থন করেছেন। ফলে যুদ্ধ ইস্যুতে হোয়াইট হাউসকে আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।