ইরানের শাসন কাঠামোয় পরিবর্তন এসেছে এমন দাবি করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump।
সোমবার (৩০ মার্চ) দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমানে ইরানে একটি ‘নতুন ও যুক্তিবাদী’ গোষ্ঠী ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে এসেছে, যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ফলপ্রসূ হচ্ছে।
তবে এই গোষ্ঠী কারা, কিংবা ইরানের বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামোয় তাদের অবস্থান কী সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি হোয়াইট হাউস।
যুদ্ধের এক মাসে নতুন দাবি
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরুর এক মাস পূর্তির প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে এলো। গত কয়েক সপ্তাহে সামরিক চাপ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের গুঞ্জন ছিলই।
ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসনের কড়া নীতির কারণে আগের কট্টরপন্থী নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং নতুন বাস্তববাদী নেতৃত্ব আলোচনায় আগ্রহী হয়েছে।
নেতৃত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা
ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে Mojtaba Khamenei–এর অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা চলছে।
এর আগে ট্রাম্প তার জীবিত থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন, যা ইঙ্গিত দেয় ওয়াশিংটন হয়তো ভিন্ন কোনো শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
বাস্তবতা নাকি কৌশল?
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই দাবি আংশিকভাবে সামরিক চাপের ফল হতে পারে। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে সাম্প্রতিক হামলার কারণে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সমালোচকদের একাংশ মনে করছেন, এটি মনস্তাত্ত্বিক কৌশলও হতে পারে যার মাধ্যমে ইরানের অভ্যন্তরে বিভ্রান্তি তৈরি করা এবং চাপ বাড়ানোই লক্ষ্য।
ইরানের অবস্থান
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এখন পর্যন্ত কোনো শাসন পরিবর্তনের কথা স্বীকার করেনি। বরং প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার বার্তাই প্রচার করা হচ্ছে।
সামনে কী?
বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই নতুন কোনো মধ্যপন্থী গোষ্ঠী ক্ষমতার কেন্দ্রে আসে, তাহলে চলমান সংঘাতের সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এখনো পরিস্থিতি অনিশ্চিত এবং বিশ্ববাসীর নজর তেহরানের দিকেই।
এখনো কোনো মতামত নেই।