যৌন নির্যাতন ও মানহানির মামলায় বড় ধরনের আইনি ধাক্কা খেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট তার করা আপিল গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে নিম্ন আদালতের দেওয়া রায় বহাল থাকছে এবং তাকে লেখক ও সাংবাদিক E. Jean Carroll-কে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
২০২৩ সালে নিউইয়র্কের একটি জুরি বোর্ড রায়ে উল্লেখ করে, ১৯৯০-এর দশকে ট্রাম্প ক্যারলের ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছিলেন। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ অভিযোগকে মিথ্যা ও গুজব বলে উল্লেখ করে ক্যারলের মানহানি করেন। এ কারণে জুরি বোর্ড ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
ট্রাম্প শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি ছিল, বিচার চলাকালে এমন কিছু প্রমাণ উপস্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যা জুরিদের কাছে তার ভাবমূর্তিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে।
এর আগে একটি ফেডারেল আপিল আদালতও জুরির রায় বহাল রাখে এবং নতুন করে বিচার প্রয়োজন নেই বলে মত দেয়। পরে ট্রাম্প বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে গেলেও আদালত মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেনি। আদালত এ সিদ্ধান্তের কারণও প্রকাশ করেনি, যা দেশটির প্রচলিত রীতি।
সুপ্রিম কোর্টের এ সিদ্ধান্তকে ট্রাম্পের শেষ আইনি প্রচেষ্টার ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে এখন তাকে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
রায়ের পর ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা কাপলান এক বিবৃতিতে বলেন, জুরির সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে বহাল থাকল এবং ট্রাম্পের দায় এড়ানোর সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে বিশেষভাবে একটি আইন ব্যবহার করা হয়েছে, যা বহু বছর আগের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করার সুযোগ দিয়েছে।
মামলাটির শুনানিতে ট্রাম্পের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছিলেন, জুরিদের সামনে ২০০৫ সালের বহুল আলোচিত ‘অ্যাক্সেস হলিউড’ টেপ উপস্থাপন করা উচিত হয়নি। তবে আদালত তাদের এ যুক্তি গ্রহণ করেনি।
এদিকে ক্যারলকে নিয়ে ট্রাম্পের পরবর্তী মন্তব্যের জেরে আরেকটি পৃথক মানহানি মামলায় তাকে ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই রায়ের বিরুদ্ধেও তার আপিল খারিজ হয়েছে।
বর্তমানে ৮১ বছর বয়সী ক্যারল অভিযোগ করেন, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ম্যানহাটনের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরের ড্রেসিং রুমে ট্রাম্প তাকে যৌনভাবে আক্রমণ করেছিলেন। ২০২২ সালে ট্রাম্প প্রকাশ্যে অভিযোগ অস্বীকার করলে তিনি তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন।
সূত্র: কালের কণ্ঠ
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।