তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে সরকার গঠন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও টানাপড়েন দেখা দিয়েছে। ভোটের কয়েকদিন পার হলেও এখনো স্পষ্ট হয়নি কে রাজ্যে সরকার গঠন করবে। প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় টিভিকে প্রধান থালাপতি বিজয়কে একাধিকবার রাজভবন থেকে ফিরতে হয়েছে।
এর মধ্যেই নতুন আইনি জটিলতায় জড়ালেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে, আম্মা মাক্কাল মুন্নেত্রা কাজাঘাম (এএমএমকে)-এর একমাত্র বিধায়কের ভুয়া সমর্থনপত্র দেখিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি করেছেন বিজয়।
দলটির দাবি, তারা ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন পেয়েছে এবং সরকার গঠনের প্রস্তুতি চলছে। এমনকি এক পর্যায়ে বিজয়কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও সামনে আসে।
তবে পরে রাজভবন সূত্র জানায়, সংখ্যাগরিষ্ঠতার মৌখিক দাবি করা হলেও এর কোনো লিখিত প্রমাণ বিজয় বা তার দল দেখাতে পারেনি। এরপরই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
এএমএমকে-র সাধারণ সম্পাদক টিটিভি দীনাকরণ অভিযোগ করেন, তার দলের বিধায়ক এস কামরাজের ভুয়া সমর্থনপত্র রাজ্যপালের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, ওই বিধায়ক টিভিকে-কে সরকার গঠনে কোনো সমর্থন দেননি।
অন্যদিকে টিভিকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে কামরাজ নিজেই সমর্থনপত্রে স্বাক্ষর করেছেন এবং দীনাকরণ সেটি অনুমোদন করেছেন। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
এদিকে তামিলনাড়ুর প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি ডিএমকে ও এডিএমকে-ও সরকার গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি রাজ্যে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি করেছে।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, রাজ্যপাল ও বিজেপি বিজয়কে মুখ্যমন্ত্রী হতে বাধা দিয়ে এনডিএ-র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে টিভিকে-র পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হয়েছে যাতে রাজ্যপালকে সরকার গঠনের জন্য বিজয়কে আহ্বান জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
সুত্রঃ কালের কন্ঠ
এখনো কোনো মতামত নেই।