ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকার মধ্যেই নতুন উদ্বেগের খবর দিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক আবহাওয়ায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে নাসার বিজ্ঞানীরা এই মূল্যায়ন করেছেন। সম্প্রতি নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের কয়েকটি অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পাওয়া গেছে, যা সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের পানি উষ্ণ হলে তা প্রসারিত হয় এবং পানির স্তর বেড়ে যায়। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার পরিবর্তন জলবায়ুর গতিপ্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এল নিনো হলো এমন একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া, যার ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট অঞ্চলের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হলে সেটিকে সুপার এল নিনো বলা হয়। এমন অবস্থায় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও মৌসুমি আবহাওয়ার ধরণে বড় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
নাসা জানিয়েছে, চলমান পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হলে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে কোথাও অতিবৃষ্টি, কোথাও আবার খরার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় কয়েকটি দেশে খরার ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা এবং এশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা অনুভূত হতে পারে। একই সঙ্গে দক্ষিণ গোলার্ধের কয়েকটি অঞ্চলেও দীর্ঘ সময় ধরে উষ্ণ আবহাওয়া স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জলবায়ুবিদরা বলছেন, অতীতের শক্তিশালী এল নিনো ঘটনাগুলো বিশ্বব্যাপী খাদ্য উৎপাদন, কৃষি ও জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল। তাই বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে শক্তিশালী এল নিনো যুক্ত হলে বিশ্বের অনেক দেশকে তাপপ্রবাহ, খরা ও চরম আবহাওয়ার জন্য আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে হতে পারে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।