ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সংসদীয় জীবনের পথচলার পর এবার জাতীয় সংসদ পরিচালনার দায়িত্বে আসছেন তিনি।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতার জন্য তাকে রাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীর বিক্রম’ দেওয়া হয়।
খেলাধুলা থেকে রাজনীতি
রাজনীতিতে আসার আগে তিনি ছিলেন একজন খ্যাতিমান ক্রীড়াবিদ। একসময় পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও অধিনায়ক ছিলেন তিনি।
এছাড়া ১৯৬৪ সাল থেকে টানা তিন বছর পূর্ব পাকিস্তানের দ্রুততম মানব হিসেবে পরিচিতি পান এই রাজনীতিবিদ।
তার পারিবারিক পটভূমিও ছিল রাজনৈতিক। তার বাবা ডা. আজহার উদ্দিন ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
সংসদীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ পথচলা
সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন মেজর (অব.) হাফিজ। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোলা-৩ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোলা-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের বড় ব্যবধানে হারান তিনি।
পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দেন এবং দলটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে থাকেন। এরপর বিএনপির প্রার্থী হয়ে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব
খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯৬ সালে স্বল্প সময়ের জন্য বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী ছিলেন তিনি। পরে ২০০১ সালে পাটমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে পানিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।
দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে
বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় এই নেতা দলটির কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ভোলা অঞ্চলে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের বেশি সংসদীয় অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন ৮১ বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ।
এখনো কোনো মতামত নেই।