স্মার্টফোন আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। তবে প্রয়োজনের বাইরে অতিরিক্ত ব্যবহার অনেক সময় নেশার মতো হয়ে দাঁড়ায়। কাজের ক্ষতি, মনোযোগের ঘাটতি, এমনকি ঘুমের সমস্যা সবকিছুর পেছনে দায়ী হতে পারে মোবাইল আসক্তি। কিছু সচেতন অভ্যাস গড়ে তুললে এই নির্ভরতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করুন
দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় ফোন ব্যবহারের জন্য ঠিক করুন। কাজের সময়, পড়াশোনা বা পারিবারিক মুহূর্তে ফোন দূরে রাখার চেষ্টা করুন। নির্ধারিত সময় শেষ হলে ফোন সরিয়ে রাখুন। এতে ধীরে ধীরে অযথা স্ক্রিন টাইম কমে আসবে।
অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করুন
বারবার ফোনে নোটিফিকেশন আসা মনোযোগ নষ্ট করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা বিনোদনমূলক অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখলে ফোন চেক করার প্রবণতা কমে যায়। বিশেষ করে কাজের সময় ফোন সাইলেন্ট বা ডু নট ডিস্টার্ব মোডে রাখলে উপকার পাবেন।
নিজের শখকে সময় দিন
ফোনের বদলে নিজের পছন্দের কাজে সময় দিন। বই পড়া, গান শোনা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, আঁকাআঁকি বা ব্যায়াম এসব কাজে মন দিলে স্ক্রিনের প্রতি আকর্ষণ কমে যায়। বাস্তব জীবনের আনন্দ বাড়লে ভার্চুয়াল জগতের টানও কমে।
বিছানায় ফোন নয়
ঘুমাতে যাওয়ার সময় ফোন সঙ্গে নেওয়ার অভ্যাস বদলান। বিছানা থেকে দূরে চার্জে রাখুন। এতে রাত জেগে স্ক্রল করার প্রবণতা কমবে এবং ঘুমের মান উন্নত হবে।
চোখের যত্ন নিন
দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে চোখের ওপর চাপ পড়ে। তাই ২০ মিনিট পরপর ২০ সেকেন্ডের জন্য অন্তত ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকান। এই ২০-২০-২০ নিয়ম চোখের ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে।
শেষ কথা
মোবাইল ফোন ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়, প্রয়োজনও নেই। তবে নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহার থেকে বেরিয়ে আসতে সচেতন সিদ্ধান্ত জরুরি। ছোট ছোট অভ্যাস বদলই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
এখনো কোনো মতামত নেই।