সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র ও কাউন্সিলরদের অনুপস্থিতির সুযোগে প্রশাসনিক কার্যক্রমে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অভিযোগ উঠেছে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে পৌরসভা সংশ্লিষ্ট মহল ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে পৌরসভার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
পৌরসভার কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন ধরেই অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। তবে তারা প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।
এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, পৌরসভার বিভিন্ন সেবা পেতে আগের তুলনায় বেশি জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। তাদের মতে, জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা সরাসরি শোনার মতো কার্যকর কোনো প্ল্যাটফর্ম নেই।
সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, জনগণের প্রতিষ্ঠান হিসেবে পৌরসভায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণমূলক প্রশাসন নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলেও তারা মনে করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করেই তিনি দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রয়োজন হলে যেকোনো তদন্তে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে পৌর প্রশাসনের প্রতি জনসাধারণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলে বিতর্কের অবসান ঘটবে এবং পৌর প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে জনমনে সৃষ্টি হওয়া প্রশ্নেরও সমাধান হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।