অতিরিক্ত মুনাফার আশায় চিংড়ি মাছের ওজন বাড়াতে জেলি ও বিভিন্ন অপদ্রব্য ব্যবহারের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বাজারে এমন মাছ বিক্রি হওয়ায় একদিকে ক্রেতারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও পড়ছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিংড়ির শরীরে প্রবেশ করানো কৃত্রিম জেলি ও রাসায়নিক উপাদান দীর্ঘদিন মানবদেহে প্রবেশ করলে তা কিডনি, পাকস্থলীসহ বিভিন্ন অঙ্গের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
সম্প্রতি রাজধানীর একটি মাছের বাজার থেকে বড় আকারের গলদা চিংড়ি কিনে প্রতারণার শিকার হন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এক ক্রেতা। তিনি জানান, বাসায় মাছ পরিষ্কার করার সময় দেখতে পান চিংড়ির ভেতরে বিপুল পরিমাণ জেলি রয়েছে। তার দাবি, কেনা মাছের উল্লেখযোগ্য অংশই ছিল ওই জেলি জাতীয় পদার্থ।
শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন জেলাতেও এমন প্রতারণার তথ্য সামনে এসেছে। ফেনীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে চিংড়ির মধ্যে ক্ষতিকর জেলি প্রবেশ করানোর অভিযোগে বিপুল পরিমাণ মাছ জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাও করা হয়।
এ ছাড়া ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে জেলি মেশানো চিংড়ি বিক্রির সময় কয়েকজনকে আটক করা হয়। বরিশালের আগৈলঝাড়াতেও একই ধরনের অপরাধে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করে জব্দ করা মাছ ধ্বংস করেছে প্রশাসন।
মৎস্য ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিলিকা জাতীয় উপাদান, ভাতের মাড় ও অন্যান্য পদার্থ মিশিয়ে ঘন জেলি তৈরি করেন। পরে সিরিঞ্জের মাধ্যমে তা চিংড়ির মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রবেশ করানো হয়, যাতে মাছের ওজন কৃত্রিমভাবে বৃদ্ধি পায়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কৃত্রিম উপাদান মানুষের শরীরে স্বাভাবিকভাবে হজম হয় না। ফলে দীর্ঘমেয়াদে হজমজনিত জটিলতা, পাকস্থলীর সমস্যা, কিডনির ক্ষতি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাজারে নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভেজাল খাদ্য বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের প্রতারণা বন্ধ করা কঠিন হবে।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষা এবং ভেজাল প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দাবি, জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।