ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, সংগঠনের কোনো সদস্য রাজনীতিকে জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনীতি মানুষের কল্যাণে কাজ করা এবং ব্যক্তিত্ব গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র, অর্থ উপার্জনের উপায় নয়।
সম্প্রতি একটি টেলিভিশনভিত্তিক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সাদ্দামের দাবি, রাজনীতি যখন ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে পরিণত হয়, তখনই বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং টেন্ডারবাজির মতো নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের জন্ম হয়। ছাত্রশিবির শুরু থেকেই এ ধরনের সংস্কৃতির বিরোধিতা করে আসছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সংগঠনের নেতাকর্মীরা শিক্ষাজীবনে নিজেদের প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে টিউশনি, গবেষণাধর্মী কাজ কিংবা অন্যান্য বৈধ পেশাগত কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন। পাশাপাশি তাদের দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যও উৎসাহ দেওয়া হয়।
ছাত্রশিবির সভাপতি জানান, কোনো সদস্যের আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সংগঠন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে। সন্দেহজনক কোনো কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রজীবন শেষ হওয়ার পর শিবিরের দায়িত্বশীলরা সাধারণত নিজ নিজ পেশায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করেন। অতীতের কেন্দ্রীয় নেতাদের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেকেই বর্তমানে চিকিৎসা, প্রকৌশল, ব্যবসা বা অন্যান্য পেশায় সফলভাবে কাজ করছেন।
নুরুল ইসলাম সাদ্দামের মতে, পেশাগত জীবনে সফল হওয়া এবং সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখা সংগঠনের কর্মীদের অন্যতম লক্ষ্য।
একই আলোচনায় তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বেও একই ধরনের চর্চা রয়েছে। দলটির শীর্ষ নেতারা নিজস্ব পেশা বা ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যক্তিগত আয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন না।
তিনি দাবি করেন, এই নৈতিক অবস্থান ও সাংগঠনিক সংস্কৃতিই ছাত্রশিবিরকে অন্যান্য ছাত্রসংগঠন থেকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।