‘মাথা উঁচু করে দেশে ফিরব’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও নানা বাধা সত্ত্বেও তিনি আবারও বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরবেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তাকে বহুবার হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু তা সফল হয়নি।
তিনি বলেন, “সৃষ্টিকর্তা বাঁচিয়ে রেখেছেন বলেই আবারও দেশের মানুষের কাছে ফিরব। মাথা উঁচু করেই ফিরব।”
ভারতের পক্ষ থেকে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে আনন্দবাজার জানায়, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ভারত সরকার আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেন শেখ হাসিনা। তার দাবি, অতীতেও আওয়ামী লীগকে দমন করার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু দলটি আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে এখনও কোটি কোটি সমর্থক আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছেন। নেতাকর্মীরা নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। সময় এলেই দল আরও সংগঠিত হয়ে ফিরবে।”
দেশের বাইরে অবস্থান করা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গেও কথা বলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষ্য, অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সবসময় বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। গঙ্গা পানি চুক্তি, সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তি ও স্থলসীমান্ত চুক্তির মতো বিষয়গুলোকে তিনি সরকারের বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তির প্রমাণ কেউ দেখাতে পারেনি। দেশের উন্নয়ন ও কূটনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।”
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি সাময়িক। গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরলে দলীয় নেতাকর্মীরাও দেশে ফিরবেন এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম আরও জোরালো হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।