দেশজুড়ে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চা, উদ্ভাবনী চিন্তা, উদ্যোক্তা তৈরির সংস্কৃতি এবং জলবায়ু সচেতনতা বাড়াতে আজ একসঙ্গে দুটি বড় কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
এর একটি হলো ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (ইইএসএস)’ এর আওতায় জাতীয় পর্যায়ের স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী। অন্যটি ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস)’ প্রকল্পের আওতায় দেশের ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুপুর ১টায় কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
মাউশি জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বের করে সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং বাস্তবমুখী উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটাতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এতে অংশ নিয়েছেন। প্রতিটি দলে তিনজন শিক্ষার্থী ও দুজন শিক্ষক রয়েছেন।
গত ১২ জুন দেশের ৫২১টি উপজেলা ও মহানগর এলাকায় প্রথম ধাপের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ৮ হাজার ২৯টি দলের ২৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এবং ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষক অংশ নেন। পরে উপজেলা পর্যায় থেকে নির্বাচিত ৫৪৬টি দল জেলা পর্যায়ে নিজেদের প্রকল্প উপস্থাপন করে।
জেলা ও মহানগর পর্যায় থেকে নির্বাচিত সেরা ১০০টি দল আজ জাতীয় পর্যায়ে তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করবে। বিচার শেষে সেরা ১০টি দলকে ট্রফি দেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্বাচিত শিক্ষকদের ‘সু শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক পুরস্কার’ এবং শিক্ষার্থীদের ‘উদ্ভাবনী মেধাবী শিক্ষার্থী পুরস্কার’ দেওয়া হবে। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকরা ৩০ হাজার টাকা ও সনদপত্র এবং শিক্ষার্থীরা ২০ হাজার টাকা ও সনদপত্র পাবেন।
মাউশির কর্মকর্তাদের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান খুঁজে বের করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা ও বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তার বিকাশ ঘটবে।
একই দিনে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের ২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ১৮ হাজার ৯০৭টি বিদ্যালয়, এক হাজার ৪৪৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ৯ হাজার ২৬৮টি মাদ্রাসা।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে অন্তত একটি ফলদ, একটি বনজ এবং একটি ঔষধি গাছ রোপণ করা হবে। মাউশি জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানটি দেশের সব অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অতিথিরাও কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।