মঙ্গলবার (২ জুন) স্থানীয় প্রশাসনের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পূর্ব ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরে হামলায় ৭৩ বছর বয়সী এক নারীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন।
রাজধানী কিয়েভেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। শহরজুড়ে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজতে থাকলে হাজারো মানুষ নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে শহরের আকাশে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী দেখা গেছে।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, হামলার সময় শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করে। তিনি নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে অবস্থানের আহ্বান জানান।
কিয়েভ সিটি মিলিটারি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো বলেন, রুশ বাহিনী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় রাজধানীর দুটি বহুতল আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে খারকিভ শহরে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। কিয়েভে আহতের সংখ্যা চারজন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
হামলার একদিন আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্ভাব্য বড় ধরনের রুশ হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে এমন তথ্য রয়েছে যা বড় আকারের হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এজন্য তিনি দেশবাসীকে বিমান হামলার সতর্কসংকেতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনা বারবার রুশ হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। পাল্টা হামলায় ইউক্রেনও ড্রোন ও দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার ভেতরের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উভয় পক্ষের হামলার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সংঘাতের প্রভাব ইউরোপের নিরাপত্তা, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও পড়ছে।
বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও স্থায়ী সমাধানের কোনো ইঙ্গিত এখনও দেখা যাচ্ছে না।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।