মেসি নিজের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছেন দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক দিয়ে। এবার ফুটবল বিশ্বের চোখ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দিকে। আজ রাত ১১টায় ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে মাঠে নামবে পর্তুগাল। প্রশ্ন একটাই, রোনালদো কি পারবেন মেসির মতো আলো ছড়াতে?
পর্তুগালের বিশ্বকাপ মিশনের সবচেয়ে বড় ভরসা এখনো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সেও তিনি দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে মাঠে নামলেই তিনি ইতিহাসের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে খেলার কীর্তি গড়বেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই একই রেকর্ড গড়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
একসময় ফুটবল বিশ্বে সবচেয়ে বড় বিতর্ক ছিল মেসি না রোনালদো, কে সেরা? ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর সেই বিতর্ক অনেকটাই স্তিমিত হয়েছে। তবে রোনালদো এখনো নিজের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ খুঁজছেন। আর বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এর চেয়ে বড় সুযোগ আর কী হতে পারে!
তবে বাস্তবতা হলো, রোনালদো আর আগের সেই বিস্ফোরক ফুটবলার নন। বয়সের কারণে তার গতি কমেছে, আগের মতো পুরো মাঠজুড়ে চাপ সৃষ্টি করাও সম্ভব হয় না। তবুও গোলের সামনে তিনি এখনো ভয়ংকর। একটি সুযোগ পেলেই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
বিশ্বকাপে রোনালদোর পরিসংখ্যানও বেশ চমকপ্রদ। ২২টি ম্যাচে করেছেন ৮ গোল। তবে একটি বিষয় তাকে এখনো তাড়া করে বেড়ায়। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখনো কোনো গোল করতে পারেননি তিনি। তার সবগুলো গোল এসেছে গ্রুপ পর্বে।
অন্যদিকে পর্তুগাল এখন শুধু রোনালদো নির্ভর দল নয়। মাঝমাঠে ব্রুনো ফার্নান্দেস, বের্নাদো সিলভা, ভিতিনহা ও জোয়াও নেভেসের মতো তারকারা আছেন। বিশেষ করে ব্রুনো ফার্নান্দেসকে অনেকেই দলের সৃজনশীলতার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছেন।
সাম্প্রতিক মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ২১টি অ্যাসিস্ট করে আলোচনায় ছিলেন ব্রুনো। নিখুঁত পাস ও সুযোগ তৈরির দক্ষতায় তিনি পর্তুগালের আক্রমণে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। এমনকি সেট পিসের দায়িত্বেও রোনালদোর সঙ্গে ভাগাভাগি করতে দেখা যেতে পারে তাকে।
রক্ষণভাগেও বেশ শক্তিশালী পর্তুগাল। রুবেন দিয়াস, গনসালো ইনাসিও, জোয়াও কানসেলো ও দিওগো দালোতের উপস্থিতি দলটিকে ভারসাম্য দিয়েছে। ফলে কাগজে-কলমে পর্তুগালকে এবারের টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন একজনই, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। মেসি ইতোমধ্যে বিশ্বকাপে নিজের উপস্থিতির জানান দিয়েছেন। এখন দেখার অপেক্ষা, পর্তুগিজ মহাতারকাও কি একইভাবে নিজের বিশ্বকাপ শুরু করতে পারেন কি না।
আজ রাতের ম্যাচ হয়তো সেই প্রশ্নের প্রথম উত্তর এনে দেবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।