ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পুনরুত্থানের কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক শক্তি ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। তাই যেকোনো অশুভ তৎপরতা বা ফ্যাসিবাদের ইঙ্গিত রুখে দিতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ কর্মসূচি শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মিছিলটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবার দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন রিজভী।
তিনি বলেন, প্রতিবাদ কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো গণতন্ত্রবিরোধী যেকোনো অপচেষ্টা সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক করা এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা প্রতিহত করা।
রিজভীর দাবি, অতীতে যারা জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে, তাদের একটি অংশ এখনও নানা উপায়ে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ এবং বিভিন্ন গোপন তৎপরতার মাধ্যমে তারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণের ভোটে গঠিত সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। তাই গণতান্ত্রিক পরিবেশকে নষ্ট করার যেকোনো প্রচেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না।
তিনি আরও বলেন, অতীতে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর যে ধরনের নিপীড়ন, গুম, নির্যাতন ও দমননীতি চালানো হয়েছিল, দেশের মানুষ সেই পরিস্থিতিতে আর ফিরে যেতে চায় না।
রিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গুম, ক্রসফায়ার বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার মতো অভিযোগ সামনে আসেনি। এ কারণে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ আরও শক্তিশালী হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
দেশের অগ্রগতি, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখতে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো উসকানি ও বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নেও গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনতার চেতনা ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো অপতৎপরতা মেনে নেবে না।
কর্মসূচিতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে দলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।