দেশে রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। চলতি বছর নতুন করে আরও ২১৬টি রিক্রুটিং এজেন্সি সরকারি নিবন্ধন পাওয়ায় শ্রমিক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৪১টিতে। তবে এজেন্সির সংখ্যা বাড়লেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ভিসা বাণিজ্য ও প্রতারণার অভিযোগও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত ২ হাজার ৮৪১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বর্তমানে ২ হাজার ১৭৫টি সক্রিয়, আর ২৯৭টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে। রাজধানীজুড়ে এক হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্সি থাকলেও এর অর্ধেকেরও কম প্রতিষ্ঠান সরাসরি বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর কার্যক্রমে যুক্ত।
অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত লাইসেন্স দেওয়ার ফলে ভিসা বিক্রি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার ঘটনা বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান সরাসরি নিয়োগ না দিয়ে সাব-এজেন্টের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করছে।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা)-এর সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমানে সৌদি আরবে সরাসরি জনশক্তি পাঠানোর সঙ্গে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি প্রতিষ্ঠান যুক্ত। তাঁর মতে, কোনো সদস্য প্রতিষ্ঠানের কাছে বিদেশি নিয়োগের চাহিদা এলে অন্য সদস্যরাও সেই সুযোগ ভাগাভাগি করে কাজ করেন।
অন্যদিকে, সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ মনে করেন, লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের আরও কঠোর হওয়া উচিত। যেসব প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী বিদেশে পাঠাতে পারেনি বা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের লাইসেন্স বাতিল বা নবায়ন না করার পরামর্শ দেন তিনি।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে এত বিপুল সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির কার্যক্রম কার্যকরভাবে তদারকি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত পারফরম্যান্স মূল্যায়ন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করা এবং নতুন লাইসেন্স প্রদানে আরও কঠোর নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনির বলেন, এত বিপুল সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সিকে পর্যবেক্ষণ করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাই যেসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দুর্বল বা অভিযোগ বেশি, সেগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় এনে অনুমোদন সীমিত করা উচিত। অন্যদিকে, ভালো পারফরম্যান্স করা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করা যেতে পারে।
এ বিষয়ে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আশরাফ হোসেন বলেন, কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপদ শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করতে এজেন্সিগুলোকে আরও বেশি জবাবদিহিতা ও কঠোর নজরদারির আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশগামী কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা এবং প্রতারণা কমাতে কার্যকর তদারকি, স্বচ্ছ লাইসেন্সিং ব্যবস্থা এবং দুর্বল পারফরম্যান্সের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প নেই।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।