দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় তারকা জুটি বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা অবশেষে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজস্থানের ঐতিহাসিক শহর উদয়পুর-এর একটি বিলাসবহুল রিসোর্টে পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠ আয়োজনে সাতপাকে বাঁধা পড়েন তারা।
বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় ভোরে। তেলেগু রীতি অনুযায়ী গণেশপূজা ও পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে মঙ্গলাচরণ করা হয়। এরপর ‘সপ্তপদী’ সাতটি প্রতীকী পদক্ষেপের মাধ্যমে নবদম্পতি দাম্পত্য জীবনের অঙ্গীকার সম্পন্ন করেন। মালাবদল, কন্যাদান ও আশীর্বাদ দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।
দু’জনের ভিন্ন সাংস্কৃতিক শিকড়ের সম্মিলন ঘটে বিকেলের কোডাভা রীতির অনুষ্ঠানে। কর্নাটকের কোডাগু অঞ্চলের ঐতিহ্য অনুযায়ী পোশাক, সংগীত ও আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। দুই ভিন্ন সাংস্কৃতিক ধারার সমন্বয় অনুষ্ঠানে অনন্য মাত্রা যোগ করে।
কনে রাশমিকা মরচে-কমলারঙা সোনালি পাড়ের শাড়ি ও ভারি সোনালি কাজের ব্লাউজে সাজিয়েছেন। ঐতিহ্যবাহী সোনার গহনায় সজ্জিত ছিলেন তিনি বহুস্তর হার, বাহুবন্ধ, মাঙ্গটিকা ও ঝুমকা। খোলা ঢেউখেলানো চুলে জুঁই ফুলের মালা দিয়ে দক্ষিণী ঐতিহ্যের কোমল সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। বর বিজয় পরেছেন আইভরি ধুতি-শৈলী, গাঢ় সিঁদুররঙা অঙ্গবস্ত্র, সূক্ষ্ম সূচিকর্মে ফুটে উঠেছে অরণ্য ও মন্দিরের নকশা।
বিয়ের আড়ালে পারিবারিক ঐতিহ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বরমালার সময় দু’জনেই আবেগে ভেঙে পড়েন। নবদম্পতির কপালে কুমকুম ও হলুদ ছুঁইয়ে পরিবারের প্রবীণরা আশীর্বাদ জানান। বিজয়ের মা পারিবারিক ঐতিহ্য অনুযায়ী রাশমিকার হাতে বংশপরম্পরায় পাওয়া সোনার চুড়ি পরিয়ে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেন।
সামাজিক মাধ্যমে নববধূ রাশমিকা লিখেছেন, “আমি তোমার স্ত্রী হতে পেরে উচ্ছ্বসিত। এসো, একসঙ্গে আমরা একটা আশীর্বাদপুষ্ট জীবন কাটাই।” ভক্তরা ইতিমধ্যেই এ জুটিকে ‘বিরোশ’ হিসেবে সম্বোধন শুরু করেছেন।
রাজকীয় স্থাপত্য, লেক-ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সুসজ্জিত মণ্ডপ সব মিলিয়ে এই বিয়ের আয়োজন ছিল রূপকথার মতো। অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয়েছিল দক্ষিণী ধাঁচের খাবার, ডাবের পানি, এবং ঐতিহ্যবাহী উপহার সামগ্রী সবই শুভতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
উদয়পুরের আকাশের নিচে, পরিবার-পরিজনের আশীর্বাদে রাশমিকা ও বিজয়ের নতুন জীবন শুরু হলো।
এখনো কোনো মতামত নেই।