রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষ হয়েছে। মামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
বুধবার (৩ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে অভিযুক্ত সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে হাজির করে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
আদালত সূত্র জানায়, শুনানির সময় মামলার সাক্ষীদের দেওয়া জবানবন্দির বিভিন্ন অংশ প্রধান আসামি সোহেল রানাকে পড়ে শোনানো হয়। এরপর বিচারক তার বক্তব্য জানতে চাইলে সোহেল নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি তার স্ত্রীর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও আদালতের কাছে দাবি করেন।
অপর আসামি স্বপ্না আক্তারও আদালতে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন এবং মামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন।
এর আগে মঙ্গলবার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। ভিকটিমের বাবা-মা, স্বজন, প্রতিবেশী, পুলিশ সদস্য, তদন্ত কর্মকর্তা এবং ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকসহ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীরা আদালতে জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্ত শেষে গত ২৪ মে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেয় পল্লবী থানা পুলিশ। পরে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার। পরে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর স্বপ্না আক্তারকে আটক এবং প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক শেষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণ করবেন আদালত।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।