বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতীরবর্তী এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর তীব্র স্রোতে একের পর এক কৃষিজমি, ফসলি ক্ষেত ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
স্থানীয়দের দাবি, সদর উপজেলার মিজানপুর ও চন্দনী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকায় গত কয়েক সপ্তাহে ভাঙনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চর সেলিমপুর, বড়চর বেনীনগর, কালীতলা, মহাদেবপুর, চরজৌকুড়া, রামচন্দ্রপুর এবং ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় ভাঙনের কারণে ইতোমধ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানান, বর্ষার আগে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তারা আরও বেশি শঙ্কিত। কারণ পানি বৃদ্ধি পেলে ভাঙনের গতি আরও তীব্র হতে পারে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, গত কয়েক বছরে নদীভাঙনের কারণে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কবরস্থান এবং অসংখ্য বসতবাড়ি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। বর্তমানে মহাদেবপুর, চরজৌকুড়া ও রামচন্দ্রপুর এলাকার অনেক ঘরবাড়ি, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
ভাঙনকবলিত কৃষক মুন্নাফ বেপারী বলেন, বছরের পর বছর ধরে জমি হারাচ্ছেন তারা। নতুন করে শুরু হওয়া ভাঙনে অবশিষ্ট সম্পদও হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আরেক কৃষক মজিবর পরামানিক জানান, তার অধিকাংশ কৃষিজমি আগেই নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন বাকি জমির ফসলও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার গাজীর ভাষ্য, ধান, তিল, বাদামসহ বিভিন্ন ফসলের জমি দ্রুত নদীতে চলে যাচ্ছে। এতে অনেক কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
নদীপাড়ের বাসিন্দা নাসিমা বেগম বলেন, নদীভাঙনের কারণে একাধিকবার বসতঘর স্থানান্তর করতে হয়েছে। এবারও নদী ঘরের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে।
মিজানপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শফি মণ্ডল বলেন, প্রতি বছরই ভাঙনের কারণে এলাকার আয়তন কমছে। এবার বর্ষার আগেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাজমিনুর রহমান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি স্থানে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শহর রক্ষা বাঁধের উজানের প্রায় ২ দশমিক ৭ কিলোমিটার এলাকা স্থায়ীভাবে সুরক্ষার জন্য একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, অস্থায়ী নয়, দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে রাজবাড়ীর আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।