বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের ট্রেন্ড মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে ওঠে। কিছু ট্রেন্ড মানুষকে সাময়িক বিনোদন দিলেও অনেক বিষয় অজান্তেই ইসলামী আকীদা ও বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায়।
সম্প্রতি আলোচিত ‘রাগ করলা’ ভাইরাল ট্রেন্ডও তেমন একটি বিষয়। এই ট্রেন্ডে একজন ব্যক্তিকে গণকের কাছে যেতে দেখা যায়, যা ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলাম কঠোরভাবে গণক, জ্যোতিষী ও ভাগ্যবিচারকারীদের কাছে যেতে নিষেধ করেছে। কারণ গায়েবের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তাআলারই বিশেষ গুণ।
একজন মুমিনের বিশ্বাস হওয়া উচিত, ভবিষ্যৎ, ভাগ্য ও অদৃশ্য জগতের সবকিছুই আল্লাহর ইলমের অন্তর্ভুক্ত। তাই কৌতূহল, বিনোদন কিংবা ট্রেন্ড অনুসরণের জন্যও এমন কাজে জড়ানো ঈমানের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,
“আর গায়েবের চাবি তাঁরই কাছে আছে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা জানে না। স্থল ও সাগরের অন্ধকারে যা কিছু আছে তা তিনিই অবগত আছেন, তাঁর অজানায় একটি পাতাও পড়ে না।”
— (সুরা আনআম, আয়াত: ৫৯)
ইসলামের দৃষ্টিতে কেউ যদি দাবি করে যে সে গায়েব জানে বা মানুষের ভাগ্য শতভাগ নির্ভুলভাবে বলতে পারে, তবে সে মিথ্যাবাদী। তাদের কথাকে বিশ্বাস করা ঈমানের জন্য বিপজ্জনক।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
“অতএব তুমি উপদেশ দিতে থাকো; কারণ তোমার রবের অনুগ্রহে তুমি গণক নও এবং উন্মাদও নও।”
— (সুরা তূর, আয়াত: ২৯)
ইসলামে গণক, জ্যোতিষী বা ভাগ্য গণনাকারীদের কাছে যাওয়া এবং ভবিষ্যৎ জানার চেষ্টা করাকে গুরুতর গুনাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কারণ মহান আল্লাহ ছাড়া কেউ গায়েবের জ্ঞান রাখে না।
হাদিসে এসেছে, হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত কিছু লোক রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জ্যোতিষীদের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়। তারা মাঝে মধ্যে কিছু সত্য কথা বলে, যা জিনেরা চুরি করে এনে তাদের কানে পৌঁছে দেয়, এরপর তারা তার সঙ্গে অসংখ্য মিথ্যা মিশিয়ে দেয়।
— (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৭১০)
আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন,
“যে ব্যক্তি গণকের কাছে গিয়ে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করবে, তার চল্লিশ দিনের নামাজ কবুল হবে না।”
— (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৭১৪)
ইসলাম মানুষকে কুসংস্কার, ভাগ্যগণনা ও প্রতারণা থেকে দূরে থেকে একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করতে শিক্ষা দেয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল কোনো ট্রেন্ডকে অন্ধভাবে অনুসরণ না করে ইসলামের আলোকে যাচাই করা জরুরি।
মুসলমানদের উচিত এমন সব কাজ ও বিনোদন থেকে দূরে থাকা, যা ধীরে ধীরে ঈমান, আকীদা ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীলতাকে দুর্বল করে দেয়।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।