জীবনের নানা সংকট, দুশ্চিন্তা, রোগব্যাধি কিংবা হতাশার মুহূর্তে একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় আশ্রয় মহান আল্লাহ। বিপদ-আপদে তিনি দুই হাত তুলে রবের কাছে সাহায্য চান, আর আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের আশ্বস্ত করেছেন যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে তাঁর কাছে প্রার্থনা করে, তিনি তাকে নিরাশ করেন না।
তবে এই পৃথিবী পরীক্ষার স্থান। আল্লাহ তাআলা কখনো বিপদ, কখনো দুঃখ-কষ্ট, আবার কখনো নানা বাধা-বিপত্তির মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের পরীক্ষা করেন। যারা ধৈর্য ধারণ করে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা করেন, তারাই প্রকৃত সফল।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
“নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি কষ্ট-ক্লেশের মধ্যে।”
(সুরা আল-বালাদ, আয়াত: ৪)
আরও ইরশাদ হয়েছে,
“নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।”
(সুরা আল-আনফাল, আয়াত: ৪৬)
অন্যত্র আল্লাহ বলেন,
“যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।”
(সুরা আত-ত্বালাক, আয়াত: ৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও শিক্ষা দিয়েছেন, মুমিনের ওপর আসা রোগ, কষ্ট, উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেন।
(সহিহ বুখারি: ৫৬৪১, সহিহ মুসলিম: ২৫৭৩)
তাই হতাশা বা দুশ্চিন্তার মুহূর্তে একজন মুমিনের উচিত আল্লাহর রহমত থেকে কখনো নিরাশ না হওয়া। নিচে কোরআনের এমন ১৫টি আয়াত তুলে ধরা হলো, যা হৃদয়ে আশা, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস জাগিয়ে তোলে।
১. আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না
وَلَا تَيْأَسُوا مِن رَّوْحِ اللَّهِ ۖ إِنَّهُ لَا يَيْأَسُ مِن رَّوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَافِرُونَ
অর্থ: “আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই কাফির সম্প্রদায় ছাড়া কেউ আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না।”
(সুরা ইউসুফ: ৮৭)
২. নিরাশ হয়ো না, দুঃখ করো না
وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
অর্থ: “তোমরা দুর্বল হয়ো না এবং দুঃখ করো না। যদি তোমরা মুমিন হও, তবে তোমরাই বিজয়ী হবে।”
(সুরা আলে ইমরান: ১৩৯)
৩. আল্লাহ সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না
لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا
অর্থ: “আল্লাহ কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যের বাইরে কোনো দায়িত্ব অর্পণ করেন না।”
(সুরা আল-বাকারা: ২৮৬)
৪. কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি
إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا
অর্থ: “নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি। নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি।”
(সুরা আশ-শারহ: ৫-৬)
৫. আল্লাহই যথেষ্ট
وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ
অর্থ: “যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।”
(সুরা আত-ত্বালাক: ৩)
৬. আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না
لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ
অর্থ: “আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন।”
(সুরা আজ-জুমার: ৫৩)
৭. আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়ের প্রশান্তি
أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
অর্থ: “জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রশান্তি লাভ করে।”
(সুরা আর-রাদ: ২৮)
৮. যা অপছন্দ, তাতেও কল্যাণ থাকতে পারে
وَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ
অর্থ: “হতে পারে তোমরা কোনো কিছু অপছন্দ করছ, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর।”
(সুরা আল-বাকারা: ২১৬)
৯. ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও
إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ
অর্থ: “ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।”
(সুরা আল-বাকারা: ১৫৩)
১০. ধৈর্য ধরো
وَاصْبِرْ وَمَا صَبْرُكَ إِلَّا بِاللَّهِ
অর্থ: “ধৈর্য ধরো। তোমার ধৈর্য তো আল্লাহরই সাহায্যে।”
(সুরা আন-নাহল: ১২৭)
১১. আমাকে ডাকো, আমি সাড়া দেব
ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ
অর্থ: “তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।”
(সুরা গাফির: ৬০)
১২. দুঃখ করো না, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন
لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا
অর্থ: “দুঃখ করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।”
(সুরা আত-তাওবা: ৪০)
১৩. আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট
حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ
অর্থ: “আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক।”
(সুরা আলে ইমরান: ১৭৩)
১৪. ভয় করো না
لَا تَخَفْ إِنَّكَ أَنتَ الْأَعْلَىٰ
অর্থ: “ভয় করো না, নিশ্চয়ই তুমিই বিজয়ী হবে।”
(সুরা ত্বা-হা: ৬৮)
১৫. আল্লাহ উত্তরণের পথ করে দেন
وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ
অর্থ: “যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।”
(সুরা আত-ত্বালাক: ২-৩)
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।