মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানবিরোধী সংঘাতে আরও গভীরে টেনে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের জন্য পিছু হটার পথ দিন দিন সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।
একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কৌশলে ট্রাম্পকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে যুদ্ধ থেকে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে। লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি ট্রাম্পকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প নিজেকে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন বাস্তবতা গড়ে তোলার নেতৃত্বে দেখতে চাইছেন, যা একসময় জর্জ ডব্লিউ বুশ চেষ্টা করেও সফল হতে পারেননি।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননের তথাকথিত সাফল্যের দিকে না তাকিয়ে গাজায় ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত ছিল। টানা সামরিক অভিযানের পরও হামাসকে পুরোপুরি নির্মূল করতে পারেনি ইসরায়েল। বরং নির্দিষ্ট নিরাপদ অঞ্চলে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে তাদের বাহিনী।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে, গাজার মতো সীমিত পরিসরে যেখানে ইসরায়েল সফল হতে পারেনি, সেখানে ইরানের মতো বৃহৎ ও সামরিকভাবে শক্তিশালী দেশের বিরুদ্ধে কীভাবে সফলতা অর্জন সম্ভব।
ভৌগোলিক ও সামরিক দিক থেকেও ইরান অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তাদের বিস্তৃত ভূখণ্ড, পাহাড়ি অঞ্চল এবং শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা যেকোনো সরাসরি সংঘর্ষকে জটিল করে তুলতে পারে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপে। হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থে আঘাত হানার মাধ্যমে তেহরান স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, তারা এই সংঘাতে পিছু হটবে না।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দৃশ্যমান সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করলেও ইরানের প্রকৃত সক্ষমতা অনেকটাই অদৃশ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধে সক্ষম।
এদিকে কৌশলগত লক্ষ্য নিয়েও দুই মিত্রের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ইসরায়েল যেখানে ইরানের ভেতরে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে বৈশ্বিক বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে।
তবে অতীতে পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসা এবং আলোচনার মাঝপথে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধে রূপ নিয়েছে, যেখানে প্রতিপক্ষকে ভয় দেখিয়ে পিছু হটাতে চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই খেলায় ট্রাম্পের জন্য জয় তো দূরের কথা, নিরাপদে বেরিয়ে আসাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
এখনো কোনো মতামত নেই।