ব্রাজিল জাতীয় দলের ২০২৬ বিশ্বকাপ স্কোয়াড নিয়ে প্রায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছেন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। সোমবার ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, তার মূল দল এবং সম্ভাব্য একাদশ এখন অনেকটাই নির্ধারিত।
এই ঘোষণার পর সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে ব্রাজিলের অভিজ্ঞ তারকা নেইমারের জন্য। দীর্ঘদিন ইনজুরিতে থাকার কারণে জাতীয় দলে তার জায়গা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকা ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড একাধিকবার জানিয়েছেন, তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলতে চান। তবে ফিটনেস পুরোপুরি ফিরে না আসায় কোচের পরিকল্পনায় এখনও জায়গা করে নিতে পারেননি তিনি।
আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দলে একাধিক নতুন মুখকে সুযোগ দিয়েছেন। তার মতে, গত এক বছরে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের মাধ্যমে তিনি এখন একটি পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন, কোন দল নিয়ে বিশ্বকাপে নামবেন।
জানা গেছে, আগামী ১৮ মে ব্রাজিল তাদের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবে। যদিও ফিফার সময়সীমা ৩০ মে, তবুও নির্ধারিত সময়ের আগেই দল প্রকাশ করতে যাচ্ছে সেলেসাওরা।
মার্চ আন্তর্জাতিক উইন্ডোর প্রীতি ম্যাচগুলো ছিল আনচেলত্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তিনি নিজের পছন্দের একাদশ যাচাই করেন। তবে ইনজুরি সমস্যায় কিছুটা বিপাকে পড়তে হয়েছে তাকে।
রক্ষণভাগের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের চোটের পাশাপাশি তরুণ প্রতিভা এস্তেভাওয়ের ইনজুরি পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলেছে। আবার ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচে রাফিনহার চোট পাওয়ায় আক্রমণভাগ নিয়েও নতুন করে ভাবতে হচ্ছে কোচকে।
এই পরিস্থিতিতে নেইমারকে দলে না ডাকায় এবং তরুণদের দাপট বাড়ায় তার জাতীয় দলে ফেরা এখন অনেকটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে তার জন্য। হাতে আছে দুই মাসেরও কম সময়, এর মধ্যেই নিজেকে প্রমাণ করতে হবে।
তবে এসব অনিশ্চয়তার মাঝেও আত্মবিশ্বাসী আনচেলত্তি। তিনি জানিয়েছেন, ব্রাজিলের লক্ষ্য স্পষ্ট, ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জেতা। নতুনদের নিয়ে তৈরি এই দল ইতিমধ্যেই ইতিবাচক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে এবং তারা বড় মঞ্চের জন্য প্রস্তুত।
এখন দেখার বিষয়, শেষ মুহূর্তে কোনো চমক দেখাতে পারেন কি না নেইমার। না হলে হয়তো তাকে ছাড়াই হেক্সার স্বপ্নে নামবে ব্রাজিল।
এখনো কোনো মতামত নেই।