পুলিশ বাহিনীতে সাহসিকতা ও পেশাগত কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয় বাংলাদেশ পুলিশ পদক ও রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক। তবে চলতি বছর পদক ঘোষণাকে ঘিরে আবারও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, যোগ্যতার চেয়ে প্রভাব ও সম্পর্কই প্রাধান্য পাচ্ছে নির্বাচনে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ বছর পদকের জন্য মনোনীতদের তালিকায় মোট ১০৯ জন রয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজন এমন কর্মকর্তা আছেন, যারা অতীতেও একই ধরনের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। এমনকি একজনের ক্ষেত্রে একাধিকবার পদক পাওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে, যা নিয়ে বাহিনীর ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতির অভিযোগও উঠেছে। এক প্রভাবশালী কর্মকর্তার আত্মীয়কে বিশেষ বিবেচনায় পদক দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে অতীতে বিতর্কিত ভূমিকা রাখা কয়েকজন কর্মকর্তার নাম তালিকায় থাকায় পদক নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
পুলিশের ভেতরের একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক যোগ্য কর্মকর্তা পদক থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এবারও সেই ধারার পুরোপুরি পরিবর্তন হয়নি বলে তাদের ধারণা। তাদের মতে, মাঠপর্যায়ে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সদস্যদের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না।
অন্যদিকে, অতীত সরকারের সময় যেসব কর্মকর্তা প্রভাবশালী ছিলেন, তাদের মধ্য থেকে কয়েকজন এবারও তালিকায় জায়গা পেয়েছেন। ফলে বাহিনীর ভেতরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে পদক প্রদান কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তার দাবি, আগের সময় যারা বঞ্চিত ছিলেন, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে শুধুমাত্র বঞ্চিত হওয়ার কারণে কাউকে পদক দেওয়া হয়নি, পারফরম্যান্সও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কমিটির সিদ্ধান্ত সম্মিলিতভাবে নেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়ার পর কিছু নাম পুনর্বিবেচনাও করা হয়েছে।
এদিকে, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করছেন, পদক প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, প্রকৃত যোগ্যতা ও পেশাগত সাফল্যের ভিত্তিতেই এই সম্মাননা দেওয়া উচিত।
জানা গেছে, আগামী ১০ মে শুরু হতে যাচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ। চার দিনব্যাপী এ আয়োজনের উদ্বোধনী দিনে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে মনোনীত সদস্যদের হাতে পদক তুলে দেওয়া হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই।