দেশে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থায়ী সরকারি বাসভবন প্রস্তুত নেই। ঐতিহাসিক ‘গণভবন’কে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই নতুন প্রধানমন্ত্রীর আবাসন প্রশ্নে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর আগামী মঙ্গলবার শপথ নিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চলছে নানা আলোচনা।
যমুনা কি হতে যাচ্ছে নতুন ঠিকানা?
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব ছাড়ার পর সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’ আপাতত প্রধানমন্ত্রীর আবাস হিসেবে নির্ধারিত হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি নতুন প্রধানমন্ত্রীর উপযোগী করে তুলতে সংস্কার ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতির জন্য অন্তত দুই মাস সময় লাগতে পারে।
কারণ দায়িত্ব হস্তান্তরের পরপরই বাসভবন খালি হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। আবার খালি হওয়ার পর নিরাপত্তা, দাপ্তরিক কাঠামো ও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে সংস্কার প্রয়োজন হবে।
বিকল্প হিসেবে কোথায় আলোচনা?
রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার জন্য ২৯ নম্বর বাড়ি এবং হেয়ার রোড ও বেইলি রোডে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য কয়েকটি সরকারি বাংলো ও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য প্রয়োজন আলাদা নিরাপত্তা বলয় ও প্রশাসনিক কাঠামো।
অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে ব্যক্তিগতভাবে তিনি গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িতেই থাকতে পারেন। লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর পরিবারসহ তিনি সেখানে অবস্থান করছেন বলেও জানা গেছে। কিছুদিন সেখান থেকে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে শুধু ব্যক্তিগত বসবাসই নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জন্যও আবাসন ও অবকাঠামো থাকতে হয়। গুলশানের বাড়িতে সেই পূর্ণাঙ্গ সুবিধা নেই বলে জানা গেছে।
নতুন বাসভবন নির্মাণের চিন্তা
নতুন করে প্রধানমন্ত্রীর জন্য আলাদা বাসভবন নির্মাণের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। গত ৭ জুলাই এ সংক্রান্ত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। এতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থাপত্য অধিদপ্তর ও সংসদ সচিবালয়ের প্রতিনিধিরা যুক্ত রয়েছেন।
প্রথমদিকে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন একীভূত করার প্রস্তাব উঠলেও বাস্তব জটিলতায় তা এগোয়নি। স্থাপত্য নকশা সংরক্ষণ, নিরাপত্তা ও আবাসন সংকট সব মিলিয়ে প্রস্তাবটি বাতিল হয়।
পরবর্তী সময়ে শেরেবাংলা নগরের পরিত্যক্ত বাণিজ্য মেলার মাঠেও নতুন বাসভবন নির্মাণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়। তবে দূরত্ব ও জনদুর্ভোগের বিষয় বিবেচনায় সেটিও আর এগোয়নি।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার?
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ আপাতত প্রধানমন্ত্রীর ঠিকানা হতে পারে তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। নিরাপত্তা বাহিনী, বিশেষ করে এসএসএফের পরামর্শও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে শপথের আগেই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসা পর্যন্ত আলোচনা-জল্পনা চলতেই থাকবে।
এখনো কোনো মতামত নেই।