প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারি নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে সততা, মেধা ও দক্ষতাকেই একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কর্মরত কর্মকর্তাদের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে প্রতিরোধমূলক ও দমনমূলক ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে জনসেবা সহজ ও কার্যকর করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রভাব বা পক্ষপাতিত্বের সুযোগ রাখা যাবে না। যোগ্যতা, সততা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই এসব সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারি সেবাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী করতে ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সরকারি সেবা যাতে হয়রানি ও বিলম্বমুক্তভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে যায়, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, জনকল্যাণমূলক প্রশাসন গড়ে তুলতে হলে দক্ষতা, জবাবদিহি ও সততার বিকল্প নেই। জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে এসব মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।