জুলাই অভ্যুত্থানের ত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, “শুনেন, আপনারা ছয় বলে ১২ রান করেছেন, কিন্তু আগের ৩০০ রান আমরা সবাই মিলে করেছি। তাই জুলাই নিয়ে কোনো বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করবেন না যেন দেশবাসী ভুল ধারণায় না পড়ে। যেদিন আবু সাঈদ শহীদ হয়েছিল, সেদিন চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরামও শহীদ হয়েছেন। অবদান কারও কম নয়।”
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে মুলতবি প্রস্তাব (বিধি-৬২) বিষয়ক সাধারণ আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
পার্থ বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ নিয়ে গণভোটের কারিগরি দিক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “গণভোটে চারটি বিষয় থাকলেও যদি কোনো ভোটার একটির সঙ্গে একমত না হন, সে কী করবে? হ্যাঁ ভোট দিবে নাকি না? সনদের বাকি বিষয়গুলো গণভোটে দেওয়া হয়নি।”
সংবিধান ও জুলাইয়ের স্পিরিটকে সম্মান জানাতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা সবাই বসে আলোচনা করি, কিন্তু কোনো সদস্য যেন জুলাইকে আন্ডারমাইন না করে। আসুন পজিটিভ কিছু নিয়ে আসি।”
সংবিধান বাতিল বা ছুড়ে ফেলার চেষ্টার সমালোচনা করে পার্থ বলেন, “আমাদের সমস্যা জুলাই নিয়ে নয়, সমস্যা হচ্ছে প্রক্রিয়া নিয়ে। সংবিধান ছিঁড়ে নতুন করার জন্য সেই সময় ট্রানজিশনাল সরকার বা রেভল্যুশনারি ব্যবস্থা গঠন করা হয়নি। সাধারণ সরকার থেকে সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব।”
তিনি সংবিধানকে মুক্তিযুদ্ধের দলিল উল্লেখ করে বলেন, “ছুড়ে ফেলার দরকার নেই, পরিবর্তন বা সংশোধন করা সম্ভব।”
পার্থ আরও বলেন, কেউ যৌক্তিক কথা বললেই তাকে ‘জুলাইয়ের বিপক্ষের শক্তি’ বানানোর চেষ্টা করা হয়। জামায়াতের দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সারা জীবন ভারতের বিরুদ্ধে রাজনীতি করার পর এখন তাদের সঙ্গে মিটিং করছেন, আবার ইসলামের নামে ভোটের জন্য শরিয়া আইন চাইছেন না। প্রবলেম কী? পজিটিভ পলিটিক্স নিয়ে আসুন।”
এখনো কোনো মতামত নেই।