জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির বীরত্বগাথা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংশ্লিষ্ট বৈঠকে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত প্রস্তাব অনুমোদন না হওয়ায় আগামী বছরের বইয়ে তার বিষয়টি যুক্ত হচ্ছে না বলে জানা গেছে।
এনসিটিবি সূত্র বলছে, ২০২৭ সালের প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক সম্পাদনার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ অবস্থায় নতুন কোনো বিষয় সংযোজনের সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে।
প্রাথমিক শিক্ষাক্রম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের চূড়ান্ত খসড়ায় ওসমান হাদিকে নিয়ে কোনো অধ্যায় বা পাঠ রাখা হয়নি। তবে ভবিষ্যতে শিক্ষাক্রম পর্যালোচনার সময় বিষয়টি বিবেচনায় আনা হতে পারে।
এনসিটিবির কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৮ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে বেশ কিছু পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তখন নতুন বিষয় সংযোজন ও বিদ্যমান বিষয় পুনর্বিন্যাসের সুযোগ থাকবে। সেই প্রক্রিয়ায় ওসমান হাদির জীবন ও অবদান অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনাও আলোচনায় আসতে পারে।
এদিকে ২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে বেশ কিছু নতুন বিষয় সংযোজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ও স্মৃতিচারণভিত্তিক নতুন পাঠ যুক্ত করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ ছাড়া পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের আমাদের স্মরণীয় নেতা অধ্যায়ে পূর্বে থাকা কয়েকজন জাতীয় নেতার পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবনীও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৮ সালের পাঠ্যবই প্রণয়নের সময় মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং বিভিন্ন জাতীয় ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিত্বদের নিয়ে নতুন পাঠ সংযোজনের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ কমিটি।
বর্তমানে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত অধিকাংশ বইয়ের সম্পাদনা শেষ হয়েছে। বাকি থাকা কিছু নতুন বইয়ের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে এনসিটিবি।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।