মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি সরবরাহে। চট্টগ্রাম বন্দরে মার্চজুড়ে তেল ও গ্যাসবোঝাই জাহাজ এলেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেকটাই কম রয়েছে।
জ্বালানি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এ মাসে মোট ২৫টি জাহাজ বন্দরে নোঙর করেছে। তবে এতে যে পরিমাণ জ্বালানি এসেছে, তা মোট চাহিদার প্রায় অর্ধেকের মতো।
রাষ্ট্রায়ত্ত Bangladesh Petroleum Corporation (বিপিসি) জানিয়েছে, মার্চে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল বহনকারী ১৭টি জাহাজ আসার কথা থাকলেও এসেছে মাত্র আটটি। এসব জাহাজে প্রায় দুই লাখ টন তেল সরবরাহ হয়েছে। আরও কয়েকটি জাহাজ অনিশ্চয়তায় রয়েছে, যেগুলোতে দেড় লাখ টন তেল আসার কথা।
এলপিজির ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। নির্ধারিত নয়টি জাহাজের মধ্যে মাত্র পাঁচটি পৌঁছেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় এপ্রিলের জন্য নতুন আমদানি পরিকল্পনা নিয়েছে বিপিসি। প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, সমুদ্রপথে ১৪টি জাহাজ ও পাইপলাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত সরবরাহ এনে প্রায় তিন লাখ টন ডিজেল, ৫০ হাজার টন জেট ফুয়েল, ২৫ হাজার টন অকটেন এবং ৫০ হাজার টন ফার্নেস তেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল।
জ্বালানি সংকট কাটাতে বিকল্প উৎসও খোঁজা হচ্ছে। মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে এলএনজি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিপিসির মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন জানিয়েছেন, ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১০ হাজার টন তেল এসেছে এবং আরও পাঁচ হাজার টন আসার কথা রয়েছে। পাশাপাশি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও কয়েকটি ডিজেলবাহী জাহাজ পৌঁছাবে।
এদিকে এলএনজি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের একজন কর্মকর্তা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে সেখান থেকে সরাসরি কোনো এলএনজি জাহাজ আসেনি। তবে বিকল্প উৎস থেকে কয়েকটি জাহাজ শিগগিরই দেশে পৌঁছাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে জ্বালানি সরবরাহে এই চাপ আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
এখনো কোনো মতামত নেই।