মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অনিশ্চয়তার মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম। আগের দিনের বড় উত্থানের পর মঙ্গলবার বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে বাজারে মূল্যহ্রাস দেখা গেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৫ সেন্ট কমে ৯৪ দশমিক ২৩ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৮৫ সেন্ট কমে দাঁড়ায় ৯১ দশমিক ৩১ ডলারে।
এর আগে সোমবার দুই ধরনের তেলের দামই ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। তবে মে মাসজুড়ে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির প্রত্যাশায় তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা। এই আলোচনা ইতিবাচক দিকে এগোলে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমতে পারে। অন্যদিকে আলোচনা ব্যর্থ হলে বাজারে আবারও অস্থিরতা বাড়তে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণ এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে একটি সমঝোতা হতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। ফলে এ অঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার যেকোনো ইঙ্গিত তেলবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে লেবাননেও আংশিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এসেছে। এতে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘাত কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক উত্তেজনা কমানোর পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত কমার তথ্যও বাজারে প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল কমেছে। একই সঙ্গে ডিজেল ও পেট্রোলের মজুতও হ্রাস পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে তেলের দামের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।