নোয়াখালী জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে জেলায় অনেক শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে ২১ শিশু ভর্তি রয়েছে এবং প্রতিদিন নতুন রোগী যুক্ত হচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, তবে বিভিন্ন বয়সের রোগীও রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যায় নোয়াখালী জেলার সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, হামের প্রধান লক্ষণগুলো হলো জ্বর, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে ফুসকুড়ি। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অপুষ্টির কারণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
ডা. আনোয়ার হোসেন আরও জানান, নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে শিশুদের মধ্যে রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে অনেককে আগে টিকা দেওয়া হয়নি, যা সংক্রমণ বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
সিভিল সার্জন বলেন, “হামে আক্রান্ত রোগীদের আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং শিশুদের নিয়মিত টিকা কার্যক্রম জোরদার করার জন্য সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন, কয়েকদিন ধরে জ্বর ও শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের শরীরে হামের উপস্থিতি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের আলাদা আইসোলেশনে রেখে বিশেষ পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এখনো কোনো মতামত নেই।