প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার (৪ মার্চ) আটজন প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন করেছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যা নতুন দায়িত্ব কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রভাবিত মন্ত্রণালয়গুলোতে প্রশাসনিক সমন্বয় আরও কার্যকর করবে।
এবারের পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীরা তাদের আগের দায়িত্ব থেকে কিছু মন্ত্রণালয় সরিয়ে নতুন দায়িত্বে নিয়োগ পেয়েছেন। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়ানো এবং নীতি বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
নতুন দপ্তর বণ্টন নিম্নরূপ:
- মো. শরীফুল আলম – বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। পূর্বে তিনি বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। নতুন দায়িত্বে তিনি দেশের বস্ত্র ও পাট শিল্পের উন্নয়ন, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের জন্য কাজ করবেন।
- সুলতান সালাউদ্দিন টুকু – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। পূর্বে তিনি কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। নতুন দায়িত্বে তিনি জেলেদের কল্যাণ, মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ এবং প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে মনোনিবেশ করবেন।
- হাবিবুর রশিদ – রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী। তিনি আগে সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বে ছিলেন। নতুন দায়িত্বে দেশের রেল ও সড়ক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করা তার লক্ষ্য।
- মো. রাজিব আহসান – নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগ। এর মাধ্যমে দেশের জলপথ ও সেতু অবকাঠামো উন্নয়নে তার কার্যক্রম আরও বেশি দায়িত্বপূর্ণ হবে।
- মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি – পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। নতুন দায়িত্বে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়নে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
- ফারজানা শারমীন – সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। তিনি আগে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। নতুন দায়িত্বে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং নারী ও শিশু কল্যাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা তার দায়িত্ব।
- মো. নুরুল হক – প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। নতুন দায়িত্বে প্রবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা, বৈদেশিক কর্মসংস্থান নীতি ও রেমিট্যান্স সেবার উন্নয়নের কাজ করবেন।
- ববি হাজ্জাজ – প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। তিনি আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। নতুন দায়িত্বে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষার বৈষম্য দূরীকরণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমন্বয় তার কাজের মূল লক্ষ্য হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুনর্বণ্টন করা প্রতিমন্ত্রীরা অবিলম্বে নতুন দায়িত্বে কার্যক্রম শুরু করবেন। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রমে দ্রুততা ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরকারি প্রকল্পের সময়মতো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পুনর্বণ্টন মূলত মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি, প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা কমানো এবং নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রতিমন্ত্রীর বিশেষ মনোযোগ দেয়ার জন্য করা হয়।
এখনো কোনো মতামত নেই।