ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত শুরুর পর প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানের ফলে তার দেশ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের কয়েকজন শীর্ষ পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও বাসিজ বাহিনীও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
তার ভাষায়, ‘ইরান এখন আর আগের মতো শক্ত অবস্থানে নেই।’
নেতানিয়াহুর দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের কারণে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প নিরাপদ ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ইরানের নতুন নির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এবং লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর নেতা নাঈম কাসেমকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি কোনো ‘জীবননাশের হুমকি’ দিতে চান না বলে জানান।
তবে খামেনিকে কটাক্ষ করে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি মূলত রেভল্যুশনারি গার্ডের নিয়ন্ত্রণে থাকা এক ধরনের ‘পুতুল’। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে তিনি প্রকাশ্যে আসতেও পারছেন না বলে দাবি করেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, সর্বোচ্চ নেতার সাম্প্রতিক এক বিবৃতি সরাসরি তার মুখে শোনা যায়নি; বরং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক সংবাদ পাঠক সেটি পড়ে শোনান।
ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রসঙ্গ তুলে নেতানিয়াহু বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা আপনাদের পাশে আছি।’
তবে একই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, শেষ পর্যন্ত দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত ইরানের জনগণের হাতেই।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন কূটনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তার মতে, এই সংঘাতের ফলে অঞ্চলে ইসরাইলের জন্য নতুন জোট গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনাল সাময়িকভাবে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এতে করে অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই।