জাতীয় সংসদে নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর সমালোচনা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর শাখা। একই সঙ্গে তার কাছে প্রকাশ্যে ও নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছে দলটি।
রোববার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানায় এনসিপি। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন দলের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার ভারপ্রাপ্ত দপ্তর ও প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক রিদুয়ান হৃদয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান। সেখানে কোনো নারী জনপ্রতিনিধির পোশাক, ধর্মীয় অনুশীলন বা ব্যক্তিগত পরিচয়কে বিদ্রুপের বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করা শোভন নয়। এমন মন্তব্য শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নয়, বরং দেশের সামগ্রিক নারী সমাজের মর্যাদা ও সম্মানের প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত।
এনসিপির নেতারা মনে করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা নীতিগত বিতর্ক সংসদীয় কার্যক্রমের স্বাভাবিক অংশ। তবে ব্যক্তিগত পোশাক বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে আক্রমণের বিষয় বানানো সংসদীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক, বিশেষ করে নারীরা তাদের ব্যক্তিগত বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও পছন্দ অনুযায়ী পোশাক নির্বাচন করার সাংবিধানিক অধিকার রাখেন। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে সেই অধিকারকে সম্মান করা জরুরি।
তবে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও পোশাক নির্বাচনের অধিকারের বিষয়টি সংসদে গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করায় ডেপুটি স্পিকারের ভূমিকার প্রশংসাও করেছে দলটি।
এনসিপি বলেছে, একজন জনপ্রতিনিধির বক্তব্য সমাজে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তাই কোনো মন্তব্য জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করলে তার দায়ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিতে হয়। এ কারণে মনিরুল হক চৌধুরীর উচিত দেশের জনগণ, নারী সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের কাছে প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করা।
দলটির মতে, রাজনৈতিক শিষ্টাচার, জবাবদিহিতা এবং পারস্পরিক সম্মানবোধ শক্তিশালী করতে এ ধরনের বিষয়ে দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। একই সঙ্গে বৈষম্যহীন ও মর্যাদাভিত্তিক সমাজ গঠনে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকারের প্রতি সমান সম্মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।