দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, বৈধ তালাক ছাড়াই বিয়ে, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় এই রায় দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর পক্ষে পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
মামলার অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল তামিমা সুলতানার আগের বৈবাহিক সম্পর্ক এবং তালাকের বৈধতা। আদালত এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ের আলোকে মত দেন। পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কোনো তালাকের নোটিশ চেয়ারম্যানের কাছে পৌঁছেনি বলেই তালাক কার্যকর হয়নি, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
আদালত আরও বিবেচনায় নেন যে, তামিমা সুলতানা ২০১৬ সালে তার আগের স্বামীকে তালাক দেওয়ার পর বিদেশে চলে যান এবং দীর্ঘ সময় আলাদা জীবনযাপন করেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালে তিনি নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন। এই সময়ের মধ্যে সাবেক স্বামীর সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রকৃতি নিয়ে তদন্তে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
রায়ের পর্যবেক্ষণে তালাকনামা জাল হওয়ার অভিযোগও টেকেনি। আদালত বলেন, মামলায় উপস্থাপিত তালাকনামা ও ডাকযোগে পাঠানো নোটিশের নথিপত্রের বিরুদ্ধে কোনো গ্রহণযোগ্য জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট ডাক বিভাগের নথি ও স্বাক্ষর নিয়েও বাদীপক্ষ কোনো বিশেষজ্ঞ মতামত বা নির্ভরযোগ্য তথ্য আদালতে উপস্থাপন করতে পারেনি।
এসব বিষয় পর্যালোচনার পর আদালত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, তামিমা সুলতানা তার আগের বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে শেষ করেই নাসির হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। ফলে তাদের বিয়েকে অবৈধ বলার সুযোগ নেই।
রায় ঘোষণার পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতের সিদ্ধান্তকে ন্যায়সঙ্গত উল্লেখ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও আইনি জটিলতার অবসান ঘটেছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান মামলাটি দায়ের করেন। একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে নাসির ও তামিমার বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। মামলায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।