নরসিংদীর মাধবদীতে তিন মাস বয়সী এক নবজাতকের পা মুচড়ে গুরুতর আঘাত করার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় শিশুটির চাচা ও দাদাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রধান অভিযুক্ত চাচি লতা বেগম (৩২) এখনও পলাতক রয়েছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তা রিজা আক্তার বাদী হয়ে মাধবদী থানায় ২০১৩ সালের শিশু আইনে মামলা দায়ের করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করতে অনীহা থাকায় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
যাঁরা মামলার আসামি
মামলায় অভিযুক্ত তিনজন হলেন-
- লতা বেগম (চাচি)
- কাউছার আহম্মেদ (চাচা)
- আলমাছ মিয়া (দাদা)
তারা সবাই নরসিংদীর মাধবদী উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানিয়েছে, চাচা কাউছার আহম্মেদ ও দাদা আলমাছ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত লতা বেগমকে আটকের জন্য অভিযান চলছে।
কী ঘটেছিল?
মামলার এজাহার অনুযায়ী, শিশুটির নাম রিজিক। জন্মের পর থেকেই সে অসুস্থ থাকায় দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। এ কারণে শিশুর মা সাইফা আক্তার সংসারের কাজে নিয়মিত অংশ নিতে পারতেন না। এ বিষয় নিয়ে চাচি লতা বেগমের সঙ্গে তার মনোমালিন্য চলছিল।
গত ১১ জুলাই বিকেলে সাইফা আক্তার ওয়াশরুমে যাওয়ার আগে সন্দেহবশত মোবাইল ফোনে ভিডিও রেকর্ডিং চালু করে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সুযোগে লতা বেগম ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত শিশুটির পা জোরে মুচড়ে দেন।
ভিডিও নিয়ে ধামাচাপার অভিযোগ
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পর শিশুটির চাচা ও দাদা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং লতা বেগমকে পালাতে সহায়তা করেন। তারা মায়ের মোবাইল থেকে ভিডিও মুছে ফেললেও, তার আগেই ভিডিওটি শিশুটির মামা ইব্রাহিমের কাছে পাঠানো হয়েছিল।
পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
পরিবারের বক্তব্য
শিশুটির বাবা জহিরুল ইসলাম ও মা সাইফা আক্তার দাবি করেছেন, এটি পারিবারিক বিষয় এবং ঘটনাটি পরে নিজেদের মধ্যে মীমাংসা হয়েছে।
তাদের ভাষ্য, শিশুটির পা ভাঙেনি, সামান্য আঘাত পেয়েছে এবং বর্তমানে সে সুস্থ রয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি অতিরঞ্জিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের অবস্থান
মামলার বাদী প্রবেশন কর্মকর্তা রিজা আক্তার বলেন, শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনা পারিবারিকভাবে মীমাংসার বিষয় নয়।
তিনি জানান, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি তাদের নজরে আসে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, শিশু আইনে দায়ের করা মামলায় ইতোমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত লতা বেগমকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।